লাভ বার্ড পাখির প্রজনন.png

লাভ বার্ড পাখির প্রজনন ও বাচ্চা পালনের সঠিক পদ্ধতি

লাভ বার্ড দেখতে ছোট হলেও এদের প্রজনন ও বাচ্চা পালনের পুরো প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট সংবেদনশীল। শুধু একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী পাখিকে একই খাঁচায় রেখে নেস্ট বক্স দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পাখির বয়স, শারীরিক অবস্থা, সঠিক জোড়া নির্বাচন, খাদ্যের মান, পরিবেশ, ডিমে তা দেওয়ার সময় এবং বাচ্চার বৃদ্ধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হয়। ভুল ব্যবস্থাপনায় স্ত্রী পাখির শরীরে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে এবং বাচ্চার স্বাভাবিক বৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে।

লাভ বার্ড সাধারণত ৮ থেকে ১২ মাস বয়সের মধ্যে যৌন পরিপক্ব হতে পারে। তবে যৌন পরিপক্ব হওয়া মানেই পাখিটি নিরাপদ প্রজননের জন্য প্রস্তুত নয়। পাখি পরিচর্যাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নির্দেশনায় অন্তত ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করার এবং বিশেষ করে স্ত্রী পাখির ক্ষেত্রে প্রায় ২ বছর বয়সে প্রজনন শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অল্প বয়সে প্রজনন করালে স্ত্রী পাখির ডিম আটকে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রজননজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এই কারণে লাভ বার্ড প্রজননের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো, সফলতা শুধু কতটি ডিম বা বাচ্চা পাওয়া গেল তা দিয়ে বিচার না করা। সুস্থ মা পাখি, দায়িত্বশীল মা-বাবা, স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা বাচ্চা এবং প্রতিটি প্রজনন চক্রের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করাই ভালো ব্যবস্থাপনার আসল মাপকাঠি।

  • গুরুত্বপূর্ণ: এই লেখার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সাধারণ পরিচর্যার নির্দেশনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। অসুস্থতা বা প্রজননজনিত জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে পাখির চিকিৎসায় অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রজননের আগে সঠিক জোড়া নির্বাচন

লাভ বার্ডের অনেক প্রজাতিতে শুধু বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে পুরুষ ও স্ত্রী নিশ্চিতভাবে আলাদা করা কঠিন। তাই মাথার আকৃতি, শরীরের গঠন বা আচরণের ওপর নির্ভর করে লিঙ্গ নির্ধারণ না করাই ভালো। পরিকল্পিত প্রজননের আগে প্রয়োজন হলে রক্তভিত্তিক বা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লিঙ্গ নিশ্চিত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে দুই পাখি সক্রিয়, স্বাভাবিক ওজনের এবং দৃশ্যমান অসুস্থতার লক্ষণমুক্ত কি না নিশ্চিত করা উচিত।

নতুন পাখি আনার পর সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো পাখির সঙ্গে প্রজননের জন্য রাখা উচিত নয়। প্রথমে আলাদা রেখে তার স্বাস্থ্য ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন এবং পাখির চিকিৎসায় অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো ভালো। নতুন পাখির কোনো সংক্রামক রোগ থাকলে তা অন্য পাখি, ডিম ও বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

একটি জোড়ার জন্য আলাদা ও শান্ত পরিবেশ দিন

প্রজননকালে লাভ বার্ড বেশ আঞ্চলিক হয়ে উঠতে পারে। একই ছোট খাঁচায় একাধিক প্রজনন জোড়া ও একাধিক নেস্ট বক্স রাখলে দখল নিয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা দিতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রিত প্রজননের জন্য একটি খাঁচায় একটি জোড়া রাখা বেশি নিরাপদ। খাঁচা এমন স্থানে রাখুন যেখানে অতিরিক্ত মানুষের চলাচল, হঠাৎ শব্দ বা বারবার বিরক্ত করার ঘটনা কম।

নেস্ট বক্স পরিষ্কার, শুকনা ও নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। পাখিকে উপযুক্ত নিরাপদ বাসা তৈরির উপাদান দেওয়া যেতে পারে। লাভ বার্ডের স্ত্রী পাখির মধ্যে কাগজ বা উদ্ভিজ্জ উপাদানের টুকরা বহন করে বাসা তৈরির স্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়। নেস্ট বক্স প্রতিদিন খুলে দীর্ঘ সময় নাড়াচাড়া করার পরিবর্তে দূর থেকে আচরণ পর্যবেক্ষণ করাই ভালো।

প্রজননের আগে খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক করুন

শুধু সূর্যমুখী বীজ, মিলেট বা বীজের মিশ্রণের ওপর নির্ভর করা লাভ বার্ডের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য নয়। দীর্ঘদিন শুধু বীজভিত্তিক খাবার দিলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ভিসিএ অ্যানিমাল হাসপাতালসের লাভ বার্ড খাদ্য নির্দেশনায় দৈনন্দিন খাবারের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মানসম্মত পেলেট এবং বাকি অংশে উপযুক্ত সবজি ও সীমিত পরিমাণ ফল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিম তৈরির সময় স্ত্রী পাখির ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টির প্রয়োজন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বা একাধিক সম্পূরক খাবার একসঙ্গে দেওয়া উচিত নয়। পাখির খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী কোনো অতিরিক্ত পুষ্টি প্রয়োজন কি না, তা পাখির চিকিৎসায় অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারণ করা ভালো।

ডিম পাড়ার পর কীভাবে যত্ন নেবেন

লাভ বার্ড সাধারণত এক দফায় প্রায় ৩ থেকে ৭টি সাদা ডিম দিতে পারে। ডিম থেকে বাচ্চা বের হতে আনুমানিক ১৮ থেকে ২৪ দিন সময় লাগতে পারে। সব ডিম একই দিনে দেওয়া হয় না বলে সব বাচ্চাও একই দিনে বের হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই প্রথম ডিমের তারিখ নোট করে রাখলে অযথা ডিম সরিয়ে ফেলার ঝুঁকি কমে।

ডিমে তা দেওয়ার সময় পাখিকে অকারণে বারবার হাতে ধরা, বাসার বাক্সের অবস্থান পরিবর্তন করা বা খাঁচা নতুন জায়গায় সরানো এড়িয়ে চলুন। খাবার ও পরিষ্কার পানি সহজে পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং স্ত্রী পাখি স্বাভাবিকভাবে খাচ্ছে ও চলাফেরা করছে কি না পর্যবেক্ষণ করুন। স্ত্রী পাখি দুর্বল হয়ে খাঁচার নিচে বসে থাকলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, পেট অস্বাভাবিক ফুলে গেলে বা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও ডিম দিতে না পারলে অপেক্ষা না করে পাখির চিকিৎসায় অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের সহায়তা নিন। ডিম আটকে যাওয়া জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

বাচ্চা ফুটলে মা-বাবাকে পালন করতে দেওয়া ভালো

সুস্থ মা-বাবা নিয়মিত বাচ্চাকে খাওয়ালে শুধু মানুষের হাতে অভ্যস্ত করার উদ্দেশ্যে নবজাতক বাচ্চাকে দ্রুত আলাদা করার প্রয়োজন নেই। বাচ্চা নিয়মিত খাবার পাচ্ছে, শরীর উষ্ণ আছে এবং স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে কি না পর্যবেক্ষণ করুন। হাতে খাওয়ানো সময়সাপেক্ষ এবং দক্ষতানির্ভর কাজ। প্রয়োজন হলে পাখির চিকিৎসায় অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসক বা অভিজ্ঞ পালনকারীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এটি করা উচিত।

প্রতিদিন বাচ্চার বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করুন

বাচ্চাকে অকারণে বারবার হাতে না নিয়ে পর্যবেক্ষণের সময় খাবারের থলিতে খাবার যাচ্ছে কি না, শরীর উষ্ণ আছে কি না এবং নিয়মিত মল হচ্ছে কি না দেখুন। সম্ভব হলে প্রতিদিন একই সময়ে গ্রাম মাপতে পারে এমন ডিজিটাল স্কেলে ওজন নথিভুক্ত করুন। কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের হিসাবে ওজন ধীরে ধীরে বাড়া স্বাভাবিক বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। ওজন না বাড়লে বা কমতে থাকলে পাখির চিকিৎসায় অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

হ্যান্ড ফিডিং কখন প্রয়োজন হতে পারে

মা-বাবা বাচ্চাকে না খাওয়ালে, বাচ্চাকে আঘাত করলে অথবা পশুচিকিৎসকের পরামর্শে কোনো বাচ্চাকে আলাদা করতে হলে হ্যান্ড ফিডিং প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাখির বাচ্চার জন্য তৈরি উপযুক্ত ফর্মুলা ব্যবহার করা উচিত। প্রতিবার খাবার নতুন করে প্রস্তুত করা প্রয়োজন, কারণ রেখে দেওয়া ভেজা খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ইস্ট দ্রুত বাড়তে পারে।

বাচ্চাকে হাতে খাওয়ানোর খাবারের তাপমাত্রা সাধারণভাবে প্রায় ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা হয় এবং খাবারের তাপমাত্রা থার্মোমিটার দিয়ে মাপা উচিত। অতিরিক্ত গরম খাবারে খাবারের থলি পুড়ে যেতে পারে, আবার অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার হজমে সমস্যা করতে পারে। বাচ্চার স্বাভাবিক খাবার গ্রহণের প্রতিক্রিয়া না থাকলে জোর করে খাবার দেওয়া উচিত নয়, কারণ খাবার শ্বাসনালিতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। নতুন পালনকারীর সরাসরি অভিজ্ঞ তত্ত্বাবধান ছাড়া হাতে খাওয়ানো শুরু করা উচিত নয়।

বাচ্চাকে ব্রুডারে রাখলে তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ

পালকহীন খুব ছোট বাচ্চাকে মা-বাবা থেকে আলাদা করতে হলে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবেশ প্রয়োজন। নবজাতক পালকহীন বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নির্দেশনা রয়েছে এবং পালক বাড়ার সঙ্গে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমানো হয়। তাপমাত্রা অনুমান না করে থার্মোমিটার ব্যবহার করা উচিত। ব্রুডারের নিচের অংশ পরিষ্কার, শুকনা ও পা পিছলে যায় না এমন হওয়া প্রয়োজন।

বাচ্চাকে নিজে খাওয়া শেখানোর সময় ধৈর্য ধরুন

লাভ বার্ডের বাচ্চা সাধারণত প্রায় ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ বয়সে বাসা ছাড়তে শুরু করতে পারে, কিন্তু বাসা ছাড়লেই সম্পূর্ণভাবে নিজে খেতে শিখেছে এমন নয়। বাচ্চাকে ধীরে ধীরে বয়স উপযোগী পেলেট, নরম ও নিরাপদ সবজি এবং পরিচিত খাবার দেওয়া যেতে পারে। বাচ্চা নিজে পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করছে এবং ওজন স্থিতিশীল আছে নিশ্চিত না হয়ে হ্যান্ড ফিডিং হঠাৎ বন্ধ করা উচিত নয়।

প্রতিটি প্রজননের পর বিশ্রাম কেন জরুরি

বারবার বাসার বাক্স রেখে দিলে কিছু লাভ বার্ড ধারাবাহিকভাবে ডিম দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। ঘন ঘন ডিম উৎপাদন স্ত্রী পাখির শরীরের ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও শক্তির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই একটি প্রজনন চক্র শেষ হলে বাসার বাক্স সরিয়ে পাখিকে দীর্ঘ সময় বিশ্রাম দেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞ পাখি পরিচর্যা নির্দেশনায় দুই দফা প্রজননের মধ্যে প্রায় ছয় মাস বিশ্রাম এবং বছরে দুই দফার বেশি প্রজননে উৎসাহ না দেওয়ার পরামর্শ পাওয়া যায়।

প্রজননের সময় যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিত নয়

স্ত্রী পাখি অস্বাভাবিক দুর্বল হওয়া, খাবার বন্ধ করা, খাঁচার নিচে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক মল অথবা ডিম দেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় চাপ প্রয়োগ করা সতর্কতার লক্ষণ। বাচ্চার ক্ষেত্রে ক্রপ দীর্ঘ সময় খালি না হওয়া, খাবার গ্রহণের প্রতিক্রিয়া কমে যাওয়া, নিয়মিত ওজন না বাড়া বা অতিরিক্ত নিস্তেজ থাকা দ্রুত মূল্যায়নের প্রয়োজন নির্দেশ করতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে ঘরোয়া ওষুধ দেওয়ার পরিবর্তে পাখি চিকিৎসায় অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লাভ বার্ডের প্রজনন ও বাচ্চা পালন সম্পর্কে ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর

১. লাভ বার্ড কত মাস বয়সে প্রজনন করতে পারে?

লাভ বার্ড সাধারণত ৮ থেকে ১২ মাস বয়সে যৌন পরিপক্ব হতে পারে, কিন্তু এত অল্প বয়সে পরিকল্পিত প্রজনন করানো উচিত নয়। পাখি পরিচর্যাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নির্দেশনায় অন্তত ১৮ মাস অপেক্ষা করার এবং বিশেষ করে স্ত্রী পাখির ক্ষেত্রে প্রায় ২ বছর বয়সে প্রজনন শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

২. পুরুষ ও স্ত্রী লাভ বার্ড কীভাবে নিশ্চিত করব?

শুধু বাহ্যিক চেহারা দেখে লাভ বার্ডের লিঙ্গ নিশ্চিত করা নির্ভরযোগ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ ও স্ত্রীর স্পষ্ট বাহ্যিক পার্থক্য থাকে না। তাই পরিকল্পিত প্রজননের আগে রক্তভিত্তিক বা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লিঙ্গ নিশ্চিত করলে একই লিঙ্গের দুটি পাখিকে ভুল করে প্রজনন জোড়া ভাবার সম্ভাবনা কমে।

৩. একটি লাভ বার্ড সাধারণত কয়টি ডিম দেয়?

এক দফায় প্রায় ৩ থেকে ৭টি ডিম দেখা যেতে পারে। তবে পাখিভেদে সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে এবং প্রতিটি ডিম উর্বর হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই ডিমের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত খাবার বা সাপ্লিমেন্ট দিয়ে স্ত্রী পাখিকে বারবার ডিম দিতে উৎসাহিত করা উচিত নয়।

৪. লাভ বার্ডের ডিম ফুটতে কত দিন লাগে?

সাধারণভাবে প্রায় ১৮ থেকে ২৪ দিনের মধ্যে ডিম ফুটতে পারে। ডিমগুলো ভিন্ন দিনে দেওয়া হলে বাচ্চাও কয়েক দিনের ব্যবধানে বের হতে পারে। এজন্য প্রথম ও পরবর্তী ডিম দেওয়ার তারিখ নোট রাখা এবং সময় হওয়ার আগেই ডিম নষ্ট হয়েছে ধরে না নেওয়া ভালো।

৫. ডিম বারবার হাতে নিয়ে পরীক্ষা করা কি ঠিক?

অপ্রয়োজনে ডিম হাতে নেওয়া উচিত নয়। নেস্টে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ পাখিকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে এবং কিছু জোড়া বাসার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হলেও তা সংক্ষিপ্ত ও শান্তভাবে করা এবং নেস্টের পরিবেশ যতটা সম্ভব অপরিবর্তিত রাখা ভালো।

৬. বাচ্চাকে জন্মের পর থেকেই হ্যান্ড ফিডিং করা দরকার?

না। মা-বাবা স্বাভাবিকভাবে বাচ্চাকে খাওয়ালে শুধু মানুষের হাতে অভ্যস্ত করার জন্য নবজাতককে আলাদা করার প্রয়োজন নেই। হাতে খাওয়ানোর সময় খাবার শ্বাসনালিতে চলে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম খাবারে খাবারের থলি পুড়ে যাওয়া এবং হজমের সমস্যার ঝুঁকি থাকে। তাই প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ পালনকারী বা পাখির চিকিৎসায় অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এটি করা উচিত।

৭. লাভ বার্ডের বাচ্চা কত দিনে বাসা থেকে বের হয়?

সাধারণভাবে প্রায় ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ বয়সে বাচ্চারা বাসা ছাড়তে শুরু করতে পারে। তবে বাসা থেকে বের হওয়া আর সম্পূর্ণ নিজে খাবার খেতে পারা একই ঘটনা নয়। বাচ্চা নিজে পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করছে এবং ওজন ধরে রাখতে পারছে নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হিসেবে ধরা উচিত।

৮. শুধু বীজ খাওয়ালে কি প্রজনন সম্ভব?

পাখি শুধু বীজ খেয়েও ডিম দিতে পারে, কিন্তু শুধু বীজকে ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য বলা যায় না। দীর্ঘদিন বীজভিত্তিক খাবারের ওপর নির্ভর করলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। মানসম্মত পেলেটকে প্রধান খাদ্য হিসেবে রেখে সঙ্গে উপযুক্ত সবজি ও সীমিত পরিমাণ ফল দেওয়া বেশি ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি।

৯. লাভ বার্ডকে বছরে কতবার প্রজনন করানো উচিত?

একটির পর একটি দফায় বিরতিহীনভাবে প্রজনন করানো স্ত্রী পাখির জন্য উপযুক্ত নয়। একটি প্রজনন চক্র শেষ হলে বাসার বাক্স সরিয়ে দীর্ঘ বিশ্রাম দেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞ পাখি পরিচর্যা নির্দেশনায় দুই দফার মধ্যে প্রায় ছয় মাস বিশ্রাম এবং বছরে দুই দফার বেশি প্রজননে উৎসাহ না দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে।

১০. কখন দ্রুত এভিয়ান ভেটেরিনারিয়ানের কাছে যেতে হবে?

পাখি হঠাৎ খাবার বন্ধ করলে, দুর্বল হয়ে নিচে বসে থাকলে, শ্বাসকষ্ট হলে, ডিম বের করতে কষ্ট হলে অথবা বাচ্চার ক্রপ খালি না হলে দ্রুত পেশাদার সহায়তা নেওয়া উচিত। পাখি অসুস্থতা অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ আড়াল করতে পারে, তাই লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ার পর অপেক্ষা না করে পরীক্ষা করানো নিরাপদ।

উপসংহার

লাভ বার্ডের সঠিক প্রজনন শুরু হয় ডিম পাওয়ার অনেক আগেই। যথেষ্ট বয়সের সুস্থ জোড়া নির্বাচন, লিঙ্গ নিশ্চিত করা, ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য, শান্ত পরিবেশ এবং নিরাপদ নেস্টের ব্যবস্থা করলে স্বাভাবিক প্রজননের জন্য ভালো ভিত্তি তৈরি হয়। বাচ্চা ফুটলে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের পরিবর্তে মা-বাবার পরিচর্যা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলেই দক্ষ সহায়তায় হ্যান্ড ফিডিং করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিটি প্রজননের পর পাখিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া। কারণ দায়িত্বশীল প্রজননের লক্ষ্য বেশি ডিম পাওয়া নয়, বরং মা-বাবা ও বাচ্চা উভয়কে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *